বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সৌদি আরবে পড়াশোনার জন্য আবেদন করে থাকে। অধিকাংশের ভাগ্যেই পড়াশোনা করার সুযোগ জুটে না। এই লেখায় সৌদি আরবে পড়াশোনার সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব।

সুবিধা

ইসলামের উৎসস্থল থেকে বিশ্বমানের দ্বীনী শিক্ষা

মক্কা ও মদিনায় রয়েছে দুটি বিশ্বখ্যাত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলোর র‍্যাঙ্কিং ঈর্ষণীয়। ইসলামের অনেক বিষয়ই আরবের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এখান থেকে শিক্ষাগ্রহনের সুযোগ নিঃসন্দেহে ভাগ্যের বিষয়।

হজ ও উমরা করার সুযোগ

যদি মক্কা-মদিনা ছাড়া অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়, তবুও খুব কম খরচে উমরা করার সুযোগ থাকে। অনেক সময় বিনা মূল্যে হজ করার সুযোগ পাওয়া যায়।

আরবি ভাষা

ইসলামী শিক্ষার ভাষা আরবি। সৌদি আরবের প্রচলিত ভাষাও আরবী। তাই ছাত্ররা আরবি ভাষায় যথেষ্ট পারদর্শিতা লাভ করে। যা দেশে গিয়ে ইলমের খেদমত করার পথে সহায়ক হয়।

আধুনিক গবেষণার সঙ্গে পরিচিতির সুযোগ

সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার দিক দিয়ে উপমহাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনেকটাই এগিয়ে আছে। তাই এখান থেকে শিক্ষালাভ করলে আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় লাভ করা সহজ হয়।

স্কলারশিপ

সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ। যা একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করে। এমনকি প্রতি বছর দেশে যাওয়ার টিকিটও প্রদান করে।

বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি লাভ

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা একটি বহুজাতিক ও বৈচিত্র্যময় একাডেমিক পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পান।

বহির্বিশ্বে কাজ করার সুযোগ

এখানকার সার্টিফিকেট দিয়ে আপনি ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

 

চ্যালেঞ্জ

সরকারি সার্টিফিকেট

বাংলাদেশের কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সরকারি সার্টিফিকেট। কওমীর সনদের স্বীকৃতি না থাকার কারণে হাজারো শিক্ষার্থীর সৌদি আরবে পড়াশোনার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

বয়স

সার্টিফিকেটে বয়স কমিয়ে লেখা নিঃসন্দেহে একটি মিথ্যা, যা ইসলাম সমর্থন করে না। সার্টিফিকেট থাকার পরও অনেকেই বয়স পঁচিশ বছর বা তার বেশি হওয়ার কারণে পড়াশোনার সুযোগ হাতছাড়া করেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীর বয়স পঁচিশের কম থাকে, কিন্তু ভিসা হতে হতে পঁচিশ বছরের বেশি হয়ে যায়, তখন তার পড়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়।

কাগজপত্র

সরকারি সার্টিফিকেট ও বয়সের বাধার পর রয়েছে কাগজপত্র রেডি করার ঝামেলা। অনেকেই আগে থেকে খোঁজখবর না রাখেন না। তারপর আবেদনের ঠিক আগ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত কাগজপত্র সম্বন্ধে জানতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের সিস্টেমের কারণে সেগুলো সময়মতো সংগ্রহ করতে পারেন না। তাই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, শিক্ষা সনদপত্রের অনুবাদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত।

আবেদন প্রক্রিয়াতে ভুল করা

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলের কারণে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির  সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

উচ্চ টিউশন ফি

যারা স্কলারশিপ পেয়ে যান তাদের তো ভাগ্য ভালো, কিন্তু স্কলারশিপ না পেলে সৌদি আরবে পড়াশোনা উচ্চ টিউশন ফি-র কারণে খুব কঠিন হয়ে যায়। এমনকি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থাকে না।

আরবি ভাষা

সৌদি আরবে শিক্ষাগ্রহনের অন্যতম সুবিধা হলো আরবি ভাষা। কিন্তু একই সঙ্গে তা আবার অনেকের মাথাব্যথার কারণ। কারণ আ্পনার আরবি যদি ভাল না হয়, তাহলে আপনাকে দুই বছর আরবি ভাষা ইনস্টিটিউটে নতুন করে আরবি পড়তে হবে। যা আপনার জীবন থেকে মূল্যবান দুই বছর সময় কেড়ে নিবে।

আবহাওয়া

সৌদি আরবের অধিকাংশ এলাকা মরুভূমি হওয়ায় এর আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম। যা বাংলাদেশে থেকে কল্পনা করা যায় না। এই পরিবেশে বাস করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

খাওয়া-দাওয়া

বাংলাদেশের অনেকেই ভাত-মাছ ছাড়া থাকতে পারে না। এখানকার প্রধান খাবার রুটি। তাই অনেকের জন্য প্রথম প্রথম বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

চাকুরী করার সুযোগ নেই

স্কলারশিপে আসার পর সাধারণত চাকরি করার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু তারপরও যদি কেউ চাকুরী করতে চায় তবে তা আইনত অপরাধ।