ঢাকা থেকে মক্কা গেলে কখন ইহরাম কখন বাঁধবেন?
ঢাকা থেকে বিমানে করে সরাসরি জেদ্দা পৌঁছবেন এমন যাত্রীদের জন্য মীকাত হল কারনুল মানাযিল ও জাতু ইরক-এর মধ্যবর্তী স্থান। যে স্থান সাধারণত বিমান জেদ্দা অবতরণের আধা ঘণ্টা আগে অতিক্রম করে থাকে। ঢাকা থেকে সরাসরি মক্কাগামীদের জন্য ইহরাম না করে এই স্থান অতিক্রম করা জায়েয নয়। ইহরাম ছাড়া মক্কা শহরে ঢুকে পড়া একটি গোনাহ। এর কারণে জরিমানাস্বরূপ দম বা পশু কুরবানী করা ওয়াজিব হয়। তবে এই স্থানের আগেও ইহরাম করা জায়েয। বরং মুস্তাহাব হল নিজ বাড়ি থেকে ইহরাম করা। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস: ৩১৪৪; ইলাউস সুনান ১০/২১; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৩৪৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৩৪; আত তামহীদ ১৫/১৪৪-১৪৬)
তবে ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন কিংবা বিলম্ব হতে পারে বিধায় ফ্লাইটের সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ইহরাম বাঁধবেন। সঠিক সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারলে বিমানে ওঠার আগে ইহরামের দুই রাকাত নামায পড়ে নিন। এরপর বিমানে ওঠার আগমুহূর্তে কিংবা বিমানে উঠেই ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে ইহরাম সম্পন্ন করে নেবেন।
মদীনা থেকে মক্কা গেলে কখন ইহরাম বাঁধবেন?
আর যদি ঢাকা থেকে আগে মদীনা মুনাওয়ারা যাওয়া হয় তাহলে এখন ইহরাম বাঁধবেন না; বরং সাধারণ পোষাকে মদীনা মুনাওয়ারা যাবেন। অতপর মদীনা মুনাওয়ারা থেকে মক্কা যাওয়ার সময় মদীনা মুনাওয়ারা থেকে কিংবা সেখানকার মীকাত যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধবেন।
মক্কায় উমরা করতে চাইলে কোথায় ইহরাম বাঁধবেন?
মক্কায় থাকা অবস্থায় উমরা করতে হলে অবশ্যই মক্কা হারামের সীমানা থেকে বের হতে হবে। মক্কা শহর থেকে সবচেয়ে কাছের সীমানা হলো তানঈম, যেখানে রয়েছে মসজিদে আয়েশা রাদি.। এখান থেকে ইহরাম বাঁধা উত্তম।
রিয়াদ, দাম্মাম বা সৌদি আরবের অন্য কোনো এলাকা থেকে মক্কা আসলে কোথায় ইহরাম বাঁধবেন?
অনেকেই মীকাতের বাইরে থেকে ইহরাম ছাড়া মক্কায় ঢুকেন, তারপর মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বাঁধেন। এটা অনেক বড় মূর্খতা ও গোনাহের কারণ। তাদের জন্য উচিত হলো নিজ নিজ মীকাত পার হওয়ার আগেই উমরার বা হজ্জের ইহরাম বাঁধা।
মদিনা, ইয়ানবু, আল-উলা -এসব এলাকার দিক থেকে আগত হাজীদের যুল হুলাইফার আগে অথবা যুল হুলাইফা থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।
তাবুক, রাবিগ, দুবা, উমলুজ-এসব এলাকার দিক থেকে আগত হাজীদের যুহফাহর আগে অথবা যুহফাহ থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।
রিয়াদ, কাসিম, হাইল, বুরাইদাহ- এসব এলাকার দিক থেকে আগত হাজীদের কারনুল মানাযিলের আগে অথবা কারনুল মানাযিল থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।
আবহা, জিজান, নাজরান, খামিস মুশাইত -এসব এলাকার দিক থেকে আগত হাজীদের ইয়ালামলামের আগে অথবা ইয়ালামলাম থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।
আরার, রাফহা, হাফার আল-বাতিন -এসব এলাকার দিক থেকে আগত হাজীদের জাতুল ইরকের আগে অথবা জাতুল ইর্ক থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে।
তবে জেদ্দা থেকে আগত ব্যক্তি বাসা থেকেই ইহরাম করে আসতে পারবে অথবা মক্কার হারামের সীমানায় ঢুকার আগে কোথাও ইহরাম বাঁধতে পারবেন। একই বিধান যারা মীকাতের ভেতর তথা উপরে উল্লেখিত পাঁচটি জায়গা ও মক্কা শহরের মাঝে বাস করেন।
জেদ্দা বেড়াতে গেলে কি ইহরামে বেঁধে মক্কায় আসতে হবে?
না, জেদ্দা শহর মিকাতের ভিতর। তাই জেদ্দা শহরে গিয়ে মক্কা ফিরে আসতে চাইলে ইহরাম বেঁধে আসার প্রয়োজন নাই।
মক্কা থেকে তায়েফ বেড়াতে গেলে কি মক্কায় ইহরাম বেঁধে আসতে হবে?
হ্যাঁ, তায়েফ শহর মীকাতের বাইরে তাই ইহরাম বেঁধে আসার ওয়াজিব।