দম কি?
‘দম’ শব্দের অর্থ রক্ত। ইসলামের পরিভাষায় হজ বা উমরা করতে গিয়ে কোনো ভুল হলে তার ক্ষতি পূরণের জন্য হারামের সীমানার ভিতর পশু জবাই করে রক্ত প্রবাহিত করাকে দম বলে। দম অনেকটাই নামাজের সাজদায়ে সাহু বা ভুলের সাজদার মতো, সাজদায়ে সাহু হলো নামাজের ক্ষতিপূরণ, আর দম হলো উমরা বা হজের ক্ষতিপূরণ।
দম কী কী কারণে ওয়াজিব হয়?
দম ওয়াজিব হওয়ার কারণগুলো সাধারণত কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।
প্রথমত: ইহরাম ছাড়া মক্কা প্রবেশ করা।
দ্বিতীয়ত: হজ ও উমরা করতে গিয়ে কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া বা তাতে ত্রুটি করা।
তৃতীয়ত: ইহরামের পরিপন্থী কিছু কাজ করা। ইহরামের পরিপন্থী কাজের কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো, যার কারণে দম ওয়াজিব হয়।
- শরীরের মাপে সেলাই করে বানানো কোনো পোশাক বারো ঘণ্টার বেশি সময় পরিধান করা।
- মুখ বা মাথা বারো ঘণ্টার বেশি সময় ঢেকে রাখা।
- পুরো একটি অঙ্গে সুগন্ধি আতর, সাবান, শ্যাম্পু ইত্যাদি ব্যবহার করা।
- স্ত্রী সহবাস বা তদসংশ্লিষ্ট কাজ করা।
- মাথার এক চতুর্থাংশ বা তার বেশি মুণ্ডন করা বা ছেটে ফেলা।
- শরীরের কোনো অঙ্গের সম্পূর্ণ পশম কাটা।
- একবারে এক হাতের বা এক পায়ের পাঁচ আঙুলের নখ কাটা।
কোথায় দম আদায় করতে হয়?
মক্কার হারামের সীমানার ভেতর দমের পশু কুরবানী করা ওয়াজিব। মক্কা শহরে নির্ধারিত কসাইখানা ছাড়া পশু জবাই করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই নির্দিষ্ট কসাইখানাতেই জবাই করা উত্তম। কসাইখানার পাশেই থাকে পশুর হাট।
দমের পশুর গোশত কে খাবে?
দমের পশুর গোশত মক্কার গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হয়। ধনী কারও জন্য তা খাওয়া জায়েয নয়। তাছাড়া দম আদায়কারী নিজেও তা খেতে পারবেন না।
দম আদায় করতে কত টাকা খরচ হয়?
কুরবানীর পশুর জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, দম আদায়ের জন্য জবাই করা পশুর শর্ত সেগুলোই। কুরবানীর উপযোগী ছাগলের দাম মওসুম ও স্থান ভেদে ৩৫০ থেকে ৮০০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। হজের মওসুম ছাড়া অন্য সময় কসাইখানাতে ৫০ থেকে ১০০ রিয়াল চার্জ রাখা হয়। তাছাড়া কসাইখানাতে যাওয়ার জন্যও বিশ থেকে ত্রিশ রিয়াল ভাড়া খরচ হয়।