উমরা করতে এসে প্রচুর পরিশ্রম হয়। তাই শরীর ঠিক রাখতে খাওয়া দাওয়া ঠিকমতো হওয়াটা খুব জরুরী। কিন্তু মক্কা ও মদীনা উভয়টিই বেশ ব্যয়বহুল শহর। তাই অনেকেই কম খরচে পছন্দনীয় খাবার খেতে চান। কিন্তু রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশী খাবারের দাম অনেকটাই বেশি। সাধারণত এক বেলা বাঙালী খাবার খেতে গেলে পকেট থেকে ১০ থেকে ২০ রিয়াল বের হয়ে যায়। তাই কম খরচে খেতে হলে কতগুলো বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দাম না জেনে কোন খাবার না ক্রয় করা
এই নিয়ম সারা দুনিয়ার জন্যই প্রযোজ্য। মক্কা-মদীনার বিভিন্ন দোকানে খাবারের দাম সাধারণত লেখা থাকে। তারপরও জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পাবেন না বা ইতস্তত করবেন না। দামে না পোষালে লজ্জায় পড়ে কোন জিনিসই কেনা উচিত নয়।
পানি ফ্রি নয়, পানির দাম হাফ রিয়াল, কোথাও কোথাও এক রিয়াল
এর সহজ সমাধান হলো যমযমের পানি খাওয়া। নিজের কাছে বোতল রাখা। মসজিদে হারাম থেকে সেই বোতল পূর্ণ করে নিয়ে আসা। তাছাড়া বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠন হাজী সাহেবদের ফ্রি পানি বিতরণ করে থাকে। তা থেকে পানি সংগ্রহ করা।
হোটেলে চুক্তি করে খাওয়া
হোটেলে খেতে গেলে কিছুটা বেশি খরচ হয়। তবে দিন ভিত্তিক চুক্তি করে নিলে আপনার খাবার খরচ কিছুটা কমতে পারে। তবে এটা স্থান ও হোটেল ভেদে কিছুটা ভিন্ন হয়। সাধারণত প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ রিয়াল দিন ভিত্তিক চুক্তি করা সম্ভব। তাতে টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের সুবিধামতো সময়ে গিয়ে খাবার খাওয়া সম্ভব। আর ঘরে খাবার খেতে গেলে যে কিছুটা এলোমেলো হয় তা থেকেও বাঁচা যায়। হোটেলে বসে খেলে হিসেব হয় দুই জনের দুই খানা। কিন্তু সেই একই খাবার ঘরে নিয়ে আসলে দুই জন মিলে খাওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন ক্যাটারিং সার্ভিস
বাঙালী খাবার খেতে চাইলে সবচেয়ে সস্তা ও ভালো অপশন হলো ক্যাটারিং সার্ভিস। সাধারণত ২০ থেকে ২৫ রিয়ালে তিন বেলার খাবার পাওয়া যায়। সকাল বেলা সাধারণত রুটি দেয়। সাথে ডিম অথবা সবজি অথবা ডাল। দুপুরে ভাত, মাছ বা গোশত, ভর্তা বা সবজি ও ডাল। রাতেও ভাত, মাছ বা গোশত, ভর্তা বা ভাজি ও ডাল। তিন বেলা হোটেলে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। যারা একটু কম খাবার খান তারা অনেক সময় দুই জন মিলে একটি খাবার খেতে পারবেন।
খুবয
এক্ষেত্রে সবচেয়ে সস্তা হলো সৌদি আরবের সব মুদির দোকানে বিক্রিত রুটি-‘খুবয’। এক রিয়ালে চারটি রুটির প্যাকেট। যা দিয়ে অনায়াসে দুই বেলা চলে যাবে। সাথে খাওয়া যেতে পারে খেজুর। সাধারণত পাঁচ রিয়ালের প্যাকেটে প্রায় ৩০-৪০ টি খেজুর থাকে। দুটি রুটি ও ৫-৬টি খেজুর দিয়ে এক বেলা পেট ভরে খাওয়া যায়। খেজুর না চাইলে, খেতে পারেন কলা। দোকান ও মওসুম ভেদে কলার দাম প্রতি কেজি ৫ রিয়াল থেকে ১০ রিয়াল। ২৫০ গ্রাম সাইজের একটি কলা দিয়ে দুটি রুটি খাওয়া সম্ভব।
তমিস
যদি মনে করেন যে, আমার ঝাল না হলে চলবে না। তাহলে খেতে পারেন ‘তমিস’ নামের এক বিশাল রুটি। এই রুটি কতটা বড় তা আপনি নিজের হাতে ধরে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না। একটি তমিস পুরোটা খেতে হলে অনেক বড় খাদক হতে হবে। এই তমিস রুটির দাম সাধারণত এক রিয়াল। সাথে খেতে পারেন ডাল-যাকে আরবীতে বলে ‘আদাস’। অথবা শিম জাতীয় সবজির বীজ ‘ফুল’ দিয়ে রান্না করা তরকারী। আদাস অথবা ফুল দুটোই ছোট বাটিতে করে বিক্রি হয়। এক বাটি দোকান ও স্থান ভেদে ২ থেকে ৫ রিয়াল। একটি তমিস রুটি আর এক বাটি আদাস বা ফুল দিয়ে দুই জন মানুষের এক বেশ ভালোভাবেই চলে যাওয়ার কথা।
বুখারী রাইস
বুখারী রাইস- মূলত আফগানী খাবার। তরকারী ছাড়াও এই রাইস খাওয়া সম্ভব। তবে এটা সাধারণত মুরগীর গ্রিল, ডাল, বেগুনের তরকারী, ঢেড়সের তরকারী বা অন্য কিছু দিয়ে খাওয়া হয়। এক জনের বুখারী রাইসের দাম দোকান ভেদে ৪ থেকে ৮ রিয়াল হতে পারে। মুরগীর চার ভাগের এক ভাগের দাম সাধারণত ৭ থেকে ১০ রিয়াল।
ফল
মক্কা ও মদীনায় ফলের দাম অন্য জিনিসের তুলনায় কম। এক কেজি আপেল আর এক কেজি টমেটোর দাম অনেক সময় সমান থাকে। দুই-তিনটি আপেল একজন মানুষের এক বেলার খাবার হিসেবে যথেষ্ট হয়। আপেলের দাম স্থান ও দোকান ভেদে ৫ থেকে ১০ রিয়াল হয়। তাছাড়া খেজুরও খাবার হিসেবে যথেষ্ট ভালো।
দুধ-রুটি
মক্কা ও মদীনায় বিভিন্ন মুদির দোকানে দুধ পাওয়া যায়। সাধারণত ৩ থেকে ৫ রিয়ালে ৩০০ মিলিলিটার দুধ কেনা সম্ভব। সাথে একটা বন রুটি হলে এক বেলার খাওয়া বেশ ভালো ভাবে সম্ভব।
ফ্রি খাবার
ফ্রি খাবারের আসায় মক্কা বা মদীনায় আসা উচিত নয়। তবে এখানে অনেক সময় ফ্রি খাবার পাওয়া যায়। এখানকার লোকেরা অন্যদের সওয়াবের নিয়তে খাবার দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাজী সাহেবদের। এসব খাবার অনেক ক্ষেত্রেই বাঙালীদের উপযোগী নয়। কারণ তাতে মসলা নেই বললেই চলে। তাছাড়া আরবরা সাধারণত মরিচ একেবারেই খায় না। এসব খাবার আনতে গিয়ে অনেক মানুষ হুড়োহুড়ি করে থাকে যা আল্লাহর ঘরের যাত্রীদের জন্য অনুপযোগী।
আল্লাহ তাআলা মক্কায় আপনার সফরকে কবুল করুন। নিরাপদ শহরে আপনাকে নিরাপদে রাখুন।