হাজরে আসওয়াদ চুমু দেওয়ার ফজিলত

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি. বলেন, হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 

 

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الحَجَرِ: «وَاللَّهِ لَيَبْعَثَنَّهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا، وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ، يَشْهَدُ عَلَى مَنْ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ»: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ (رواه الترمذي: رقم الحديث 961)

আল্লাহর কসম, কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদকে পুনরুত্থিত করা হবে, তখন তার থাকবে দুটি চোখ যা দিয়ে তা দেখবে, আর থাকবে জিহ্বা যা দিয়ে তা কথা বলবে, যে ব্যক্তি তাকে যথাযতভাবে স্পর্শ করেছে তার বিষয়ে সে স্বাক্ষ্য দিবে। (সুনানুত তিরমিযী, হাদিস নং-৯৬১)

তাই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা একটি খুবই সওয়াবের কাজ। তাছাড়া এই সেই পাথর যাকে বহু নবী-রাসূল স্পর্শ করেছে ও চুম্বন করেছেন।

 

হাজরে আসওয়াদ চুুমু দেওয়ার বিধান

তাওয়াফের শুরুতে ও শেষে হাজরে আসওয়াদ চুমু দেওয়া সুন্নত। এই চুুমু দেওয়ার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। 

প্রথমত: যদি সম্ভব হয় কাউকে কষ্ট না দিয়ে সরাসরি হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়া ও তার উপর সিজদা করা। 

দ্বিতীয়ত: যদি ভীড়ের কারণে সরাসরি হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে হাত দিয়ে স্পর্শ করে তাতে চুমু খাওয়া। 

‍তৃতীয়ত: যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে লাঠি বা রুমাল দিয়ে স্পর্শ করে তাতে চুমু খাওয়া।

চতুর্থত: যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে দূর থেকে ইশারা করে তাতে চুমু খাওয়া। অর্থাৎ মানুষের ভীড়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি করে হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করে চুমু দেওয়া কোন মতেই জরুরী কোন আমল নয়। আজকাল হাজরে আসওয়াদে ভিড় লেগেই থাকে। তাই পুরুষের ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের হাজরে আসওয়াদে সরাসরি চুমু খেতে যাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয । (মানাসিক ১১৫, গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪)

 

সরাসরি চুমু না দিলে কি সওয়াব কম হবে?

মোটেই না। আল্লাহ তাআলা ইসলমাকে সহজ বানিয়েছেন। কোন বিধানেই কঠোরতা রাখেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই সব সময় সরাসরি হাজরে আসওয়াদে চুমু খেতেন না। অথচ তিনি চুমু দিতে চাইলে সাহাবায়ে কিরাম তাঁর জন্য জায়গা ছেড়ে দিতেন। তখন মানুষের ভীড় বর্তমান সময় থেকে অনেক কম ছিল। তাই যারা দূর্বল ও অসুস্থ তাদের কখনই ধাক্কাধাক্কি করে হাজরে আসওয়াদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা অনুচিত।