মক্কা মুকাররমার পবিত্র মসজিদুল হারাম মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতকেন্দ্র। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। এই পবিত্র মসজিদে ইমামতি ও খুতবার দায়িত্ব পালন করেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ফকিহ ও কুরআনের কারিগণ। কেউ দীর্ঘদিন ধরে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ সাম্প্রতিক সময়ে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের প্রায় সবাই কিরাআত, ফিকহ, তাফসির, শরিয়াহ ও ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। সৌদি আরবের ধর্মীয় বিষয়ক কর্তৃপক্ষের সরকারি তালিকায় মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে বর্তমানে দশজন আলেমের নাম রয়েছে। তাঁদের পরিচয়, শিক্ষা, ইমামতির দায়িত্ব এবং কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
এক নজরে মসজিদুল হারামের দশজন ইমাম
১. ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ — নিয়োগ ১৪০৪ হিজরি
২. ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস — নিয়োগ ১৪০৪ হিজরি
৩. ড. উসামা বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত — নিয়োগ ১৪১৮ হিজরি
৪. ড. ফয়সাল বিন জামীল গাজ্জাওয়ি — নিয়োগ ১৪২৮ হিজরি
৫. ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুয়াইকিলি — নিয়োগ ১৪২৮ হিজরি
৬. ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানি — নিয়োগ ১৪২৮ হিজরি
৭. ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা — নিয়োগ ১৪৩৪ হিজরি
৮. ড. ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দুসারি — নিয়োগ ১৪৩৬ হিজরি
৯. বদর বিন মুহাম্মাদ আত-তুরকি — নিয়োগ ১৪৪৬ হিজরি
১০. ড. আল-ওয়ালিদ বিন খালিদ আশ-শামসান — নিয়োগ ১৪৪৬ হিজরি
ইমামদের পরিচয়
১. ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ
নাম:
ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ বিন হুমাইদ।
জন্ম
১৩৬৯ হিজরিতে বুরাইদাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
মক্কায় মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি শরিয়াহ ও ইসলামী শিক্ষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৩৯২ হিজরিতে স্নাতক, ১৩৯৬ হিজরিতে মাস্টার্স এবং ১৪০২ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪০৩ হিজরিতে তিনি মসজিদুল হারামে ইমামতি শুরু করেন এবং ১৪০৪ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পান। সরকারি জীবনীতে তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রথম পিএইচডিধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ কলেজে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি সৌদি শূরা কাউন্সিলের সদস্য ও চেয়ারম্যান, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং রাজকীয় আদালনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২. ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস
নাম
ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস।
জন্ম
১৩৮২ হিজরিতে রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। ১৪০৩ হিজরিতে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক, ১৪০৮ হিজরিতে মাস্টার্স এবং ১৪১৬ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যুক্ত হন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪০৪ হিজরিতে তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
১৪০৩ হিজরিতে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পরের বছরই তিনি মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি মসজিদুল হারামে পাঠদানেও যুক্ত হন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
১৪৩৩ হিজরিতে তিনি দুই পবিত্র মসজিদের বিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে ১৪৪৫ হিজরিতে তাঁকে দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সরকারি জীবনী অনুযায়ী তিনি এ দায়িত্বে এখনও আছেন।
৩. ড. উসামা বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত
নাম
ড. উসামা বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল গনি খাইয়াত।
জন্ম
মক্কা মুকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শরিয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সরকারি জীবনী অনুযায়ী, ১৩৯৭ হিজরিতে স্নাতক, ১৪০২ হিজরিতে মাস্টার্স এবং ১৪০৮ হিজরিতে পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪১৮ হিজরিতে তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি মক্কার একটি মসজিদের ইমাম-খতিব এবং মসজিদুল হারামে শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি শূরা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন এবং বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
৪. ড. ফয়সাল বিন জামীল গাজ্জাওয়ি
নাম
ড. ফয়সাল বিন জামীল হাসান গাজ্জাওয়ি।
জন্ম
১৩৮৫ হিজরির ২৭ জিলহজ জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিরাআত বিষয়ে ১৪০৯ হিজরিতে স্নাতক, পরবর্তীতে একই বিষয়ে মাস্টার্স এবং ১৪২৩ হিজরিতে পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪২৮ হিজরিতে তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনের মূল ক্ষেত্র ছিল কিরাআত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
৫. ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুয়াইকিলি
নাম
ড. মাহের বিন হামাদ বিন মাই‘কিল আল-মুয়াইকিলি আল-বালাউই।
জন্ম
সরকারি সংক্ষিপ্ত জীবনীতে তাঁর জন্মতারিখ ও জন্মস্থান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই। তাই এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য যুক্ত করা হয়নি।
পড়াশোনা
তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং মদিনার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে গণিতের শিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। পরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪২৫ হিজরিতে ফিকহে মাস্টার্স, ১৪৩২ হিজরিতে তাফসিরে পিএইচডি এবং ১৪৩৪ হিজরিতে ফিকহে পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪২৮ হিজরিতে মসজিদুল হারামের আনুষ্ঠানিক ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি গণিতের শিক্ষক ছিলেন। পরে মক্কায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। এরপর মক্কার একটি জামে মসজিদে ইমাম-খতিব হন। ১৪২৬ ও ১৪২৭ হিজরিতে মসজিদে নববীতে রমজানের ইমামতি করেন। ১৪২৮ হিজরিতে মসজিদুল হারামে তারাবি ও তাহাজ্জুদের ইমামতির পর একই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে হারামের ইমাম হন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের College of Judicial Studies and Systems-এ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার একাডেমিক দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন।
৬. ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানি
নাম
ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ বিন ফাহদ আয-যাবিয়ানি আল-জুহানি।
জন্ম
১৩৯৬ হিজরির ১১ মহররম মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
শৈশবেই কুরআন হিফজ করেন। ১৬ বছর বয়সে মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব কুরআন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগে শিক্ষক সহকারী হিসেবে যুক্ত হন এবং তাফসিরে মাস্টার্স ও পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪২৬ ও ১৪২৭ হিজরির রমজানে মসজিদুল হারামে তারাবির ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি জীবনীতে এই দুই বছর হারামে তারাবির ইমাম হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
তিনি মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদে নববী ও মসজিদে কুবায় ইমামতি করেছেন। পাশাপাশি মদিনার কলেজ অব টিচার্সে শিক্ষকতা এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
কুরআন, কিরাআত ও তাফসিরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন প্রসিদ্ধ কুরআন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকেও তিনি কিরাআতের ইজাজাহ লাভ করেছেন।
৭. ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা
নাম
ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা।
জন্ম
১৩৯৫ হিজরির ৫ জমাদিউস সানি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও ইসলামী স্টাডিজ কলেজ থেকে ১৪১৭ হিজরিতে স্নাতক এবং ১৪২২ হিজরিতে ইসলামী ফিকহে মাস্টার্স অর্জন করেন। পরে মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪২৯ হিজরিতে ইসলামী ফিকহে পিএইচডি লাভ করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
৪ জিলহজ ১৪৩৪ হিজরি থেকে তাঁকে মসজিদুল হারামের আনুষ্ঠানিক ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
মক্কার বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি মসজিদুল হারামের ইনস্টিটিউটে ফিকহের শিক্ষক এবং ১৪৩১ হিজরি থেকে তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা এবং মসজিদুল হারামের খতিবের দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৪৪১ হিজরিতে তাঁকে মসজিদুল হারামের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৮. ড. ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দুসারি
নাম
ড. ইয়াসির বিন রাশিদ বিন হুসাইন আল-ওয়াদাআনি আদ-দুসারি।
জন্ম
১৪০০ হিজরিতে আল-খারজে জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিচার ইনস্টিটিউট থেকে তুলনামূলক ফিকহে মাস্টার্স ও পিএইচডি লাভ করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪৩৬ হিজরির রমজানে তাঁকে মসজিদুল হারামে তারাবির নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
তিনি রিয়াদের একাধিক মসজিদে ইমামতি করেছেন। এর মধ্যে মসজিদ আবদুল্লাহ আল-খুলাইফি, মসজিদ আল-কাওসার, জামে ইমাম আবদুল্লাহ বিন সৌদ, জামে শাইখ আবদুল আজিজ বিন বাজ ও জামে আদ-দাখিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
তিনি কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সৌদি ফিকহ সোসাইটি, কুরআন ও কুরআনবিজ্ঞান বিষয়ক সোসাইটি এবং দাওয়াহ স্টাডিজ সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া প্রিন্স সুলতান কুরআন হিফজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
৯. বদর বিন মুহাম্মাদ আত-তুরকি
নাম
বদর বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালেহ বিন সালেহ আত-তুরকি।
জন্ম
১৪০৪ হিজরির ২২ জিলকদ মঙ্গলবার বুরাইদাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
পড়াশোনা
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ কলেজ থেকে ১৪৩৩ হিজরিতে স্নাতক এবং ১৪৪২ হিজরিতে দাওয়াহ ও হিসবাহ বিষয়ে মাস্টার্স অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪৪৬ হিজরি/২০২৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে মসজিদুল হারামের ইমামদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
তিনি ১৪৩১ থেকে ১৪৩৯ হিজরি পর্যন্ত কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এরপর ১৪৩৯ হিজরি থেকে সৌদি আরবের ধর্মীয় বিষয়ক প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর কর্মজীবনের এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সরকারি জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
দাওয়াহ ও হিসবাহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তাঁর কর্মজীবনের অংশ।
১০. ড. আল-ওয়ালিদ বিন খালিদ আশ-শামসান
নাম
ড. আল-ওয়ালিদ বিন খালিদ বিন ইবরাহিম আশ-শামসান।
জন্ম
বর্তমান সরকারি সংক্ষিপ্ত ইমাম-জীবনীতে তাঁর জন্মতারিখ ও জন্মস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত নেই। তাই এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক তথ্য যুক্ত করা হয়নি।
পড়াশোনা
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনার কুরআন কলেজের কিরাআত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কিরাআতে মাস্টার্স ও পিএইচডি অর্জন করেন।
কবে মসজিদুল হারামের ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
১৪৪৬ হিজরি/২০২৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি মসজিদুল হারামের ইমামদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
ইমামতির দায়িত্ব পাওয়ার আগে কী করতেন?
মদিনার মসজিদে কুবায় ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কুরআন ও কিরাআত বিষয়ে একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইমামতি ছাড়া অন্যান্য দায়িত্ব
কুরআন ও কিরাআত বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
২০২৬ সালের দায়িত্বচিত্র
মসজিদুল হারামের ইমামদের দায়িত্ব প্রতিদিন একই ব্যক্তির হাতে থাকে না। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে ওয়াক্তভিত্তিক ইমাম-সূচি প্রকাশ করে। ফলে বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন ইমামকে ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সরকারি সূচির উদাহরণে দেখা যায়, একই দিনে একজন ইমাম একাধিক ওয়াক্তে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং অন্য কোনো দিনে একই ওয়াক্তে অন্য ইমাম দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সরকারি ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের বিভিন্ন দিনের সূচি প্রকাশিত রয়েছে।
ইমামদের দায়িত্বের বৈশিষ্ট্য
সরকারি সূচিগুলো থেকে দেখা যায়, মসজিদুল হারামের ইমামদের দায়িত্ব ওয়াক্তভিত্তিক পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বণ্টিত হয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট দিনে একজন ইমামকে একাধিক ওয়াক্তে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও অন্য দিনে একই ওয়াক্তে অন্য ইমাম দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
উপসংহার
মসজিদুল হারামের ইমামদের জীবন ও কর্মপরিধি শুধু নামাজের ইমামতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের অনেকেই কুরআন, কিরাআত, ফিকহ, তাফসির, শরিয়াহ, ইসলামী শিক্ষা ও একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। কেউ কয়েক দশক ধরে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ সাম্প্রতিক সময়ে এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের তিলাওয়াত, খুতবা ও দ্বীনি জ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের কাছে মক্কা মুকাররমার পবিত্র পরিবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। মসজিদুল হারামের ইমামদের এই বৈচিত্র্যময় শিক্ষাগত ও দ্বীনি পটভূমি ইসলামী জ্ঞানচর্চার বিস্তৃত পরিসরকেও তুলে ধরে। কুরআন, কিরাআত, ফিকহ, তাফসির, দাওয়াহ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের অবদান পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মীয় বার্তা বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেওয়ার ধারাকে সমৃদ্ধ করছে। আল্লাহ তাআলা মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমামদের দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তাঁদের হেফাজত করুন এবং তাঁদের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করুন। আমিন।